ঢাকা , শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫ , ২২ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ , ই-পেপার
সংবাদ শিরোনাম
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পে বড় আঘাত গণতান্ত্রিক স্থিতিশীল শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশের প্রতি সমর্থন মোদির দুর্নীতি প্রতিরোধে কাজ করতে বাংলাদেশ-থাইল্যান্ড এমওইউ মোদীকে দশ বছর আগের কথা মনে করিয়ে ছবি উপহার ইউনূসের নতুন সমীকরণে বাংলাদেশ-ভারত বাস চালকের হদিস মেলেনি আহত শিশু আরাধ্যকে ঢাকায় হস্তান্তর নিহত বেড়ে ১১ স্বস্তির ঈদযাত্রায় সড়কে ঝরলো ৬০ প্রাণ চালের চেয়েও ছোট পেসমেকার বানালেন মার্কিন বিজ্ঞানীরা আ’লীগের নেতাদের রাজকীয় ঈদ উদযাপনে ক্ষুব্ধ কর্মীরা আন্দোলনে ফিরবেন বেসরকারি কলেজ শিক্ষকরা মাদারীপুরে আগুনে পুড়ল ২ বাড়ি ভৈরবের ত্রি-সেতুতে দর্শনার্থীদের ভিড় বর্ষবরণের আয়োজন, পাহাড়ে উৎসবের রঙ ঈদের আমেজ কাটেনি বিনোদন স্পটে ভিড় আ’লীগকে নিষিদ্ধ করা বিএনপির দায়িত্ব নয় নতুন নিয়মে বিপাকে ট্রাভেল এজেন্সিগুলো ঈদের আগে বেতন-বোনাস পেয়ে স্বস্তিতে সাড়ে ৩ লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষক ঈদযাত্রায় সদরঘাটে চিরচেনা ভিড় মিয়ানমারে ভূমিকম্পে শতাধিক মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা
* ইমারত নির্মাণ বিধিমালার খসড়ায় আনা হয়েছে পরিবর্তন * ২০ ফুট রাস্তা থাকলে ৫ কাঠায় ৪ তলা বাড়ি * ফার ১ বা দশমিক ৫ শতাংশ বাড়ানোর দাবি

নতুন বিধিমালায় ঝুঁকি কমবে আবাসন খাতে

  • আপলোড সময় : ১৬-০৫-২০২৪ ১০:১১:৫৮ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১৬-০৫-২০২৪ ১০:১১:৫৮ পূর্বাহ্ন
নতুন বিধিমালায় ঝুঁকি কমবে আবাসন খাতে ইমারত বিধিমালা ২০২৪ এর খসড়া পাস হলে ফারের কারণে মুখ থুবড়ে পড়বে আবাসন ব্যবসা

নিয়মিত অগ্নিদুর্ঘটনা নিয়ে উদ্বিগ্ন নগরবাসীভূমিকম্প আতঙ্কও কম নয়চলতি বছর তাপপ্রবাহও ভাবিয়েছে নগরায়ণ নিয়েঢাকায় ভবন তৈরিতে নিয়ম থাকলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে মানা হয় না ইমারত বিধিমালাযে কারণে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে কঠিন হয় সামাল দেয়াএসব বিষয় মাথায় রেখেই ইমারত নির্মাণ বিধিমালার খসড়ায় আনা হয়েছে বেশকিছু পরিবর্তনসবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে ফ্লোর এরিয়া রেশিও (ফার) পুনর্বিন্যাসেফারের মাধ্যমে ভবনের উচ্চতা, ফ্ল্যাটের আয়তন, কতগুলো ফ্ল্যাট হবে সেটা নির্দিষ্ট করে দেয়া হচ্ছে নতুন বিধিমালায়এতে বিল্ডিংয়ের উচ্চতা কমবে এবং ভবন পরিবেশবান্ধব হবে বলছেন নগর পরিকল্পনাবিদরাতবে আবাসন ব্যবসায়ীরা বলছেন, ইমারত বিধিমালা ২০২৪ এর খসড়া পাস হলে ফারের কারণে মুখ থুবড়ে পড়বে আবাসন ব্যবসাসরকার হারাবে শত শত কোটি টাকার রাজস্বআবাসনশিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ নাগরিক, জমির মালিকও পড়বেন ক্ষতির মুখেজমির সংকট দেখা দেবে, চাপ বাড়বে কৃষিজমির ওপরব্যাহত হবে পরিবেশ
খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ইমারত নির্মাণ বিধিমালা পাস হলেই দুই থেকে তিন বছর সময় পাবেন উদ্যোক্তারাএরপর অর্থাৎ আগামী দুই বছর পরে বর্তমানে যেসব ফ্ল্যাট প্রতি স্কয়ার ফুট সাত হাজার টাকায় কেনা যাচ্ছে, সেটা ১০ হাজার টাকায় কিনতে হবেআর রড-সিমেন্টের দাম বাড়লে ১০ হাজারের সঙ্গে আরও বর্ধিত দাম যোগ হবেঅর্থাৎ উচ্চবিত্তদের জন্যই হবে ফ্ল্যাট, সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাবেপাশাপাশি সিংহভাগ ডেভেলপার কোম্পানি টিকতে পারবে নানতুন খসড়া বিধিমালা থেকে জানা গেছে, কোনো এলাকার ফার আড়াই (২.৫) এবং সেখানে প্লটের ফার যদি তিন নির্ধারণ করা হয়, তবে রাজউক প্রণীত বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা (ড্যাপ) মতে সর্বনিম্ন ফার কাউন্ট করতে হবেতার মানে এখানে কাউন্ট হবে আড়াইএতে রাস্তা বড় হওয়া সত্ত্বেও কমে আসবে বিল্ডিংয়ের উচ্চতাপ্লট সংলগ্ন রাস্তার ফারকে বেসিক ধরলে বিল্ডিংটা আরও একটু বড় হবেআবার ফ্ল্যাটের আয়তনও বাড়বেএখানে ঠিক করে দেয়া হয়েছে সবকিছুযেমন কোন জমিতে কতটি ইউনিট, ফ্ল্যাট কতটা হবে সেটা ঠিক করে দেয়া হয়েছেএখানে আয়তনও নির্দিষ্ট করা হয়েছেএ খসড়া পাস হলে এর বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেইপাঁচটার জায়গায় ১০টি ফ্ল্যাট করা যাবে নাপাঁচ কাঠায় ছোট ছোট ইউনিট করে চারটা ফ্ল্যাট করার সুযোগ থাকবে না
২০ ফুট রাস্তার ফার দুই হলে করা যাবে চারতলা বাড়িআর ২০ ফুটের নিচে হলে ফার আরও কমে দেড় বা পৌনে দুই হবে, সেক্ষেত্রে তিন থেকে সাড়ে তিনতলা বাড়ি করা যাবেএতে জমি দিতে আগ্রহী হবেন না মালিককারণ ডেভেলপার কোম্পানিগুলো সাধারণত যেসব জমি নেয় সেখানে দুই থেকে তিনতলা বিল্ডিং ভেঙে ডেভেলপ করেএখানে জমি ডেভেলপ হলেও বাড়ি তিনতলাই হচ্ছে
আগের নিয়মে ১৬ ফুট রাস্তায় জমির মালিক রাস্তা ৪ ফুট ছেড়ে দিলে একটু ফার বাড়িয়ে দেয়া হতোদাম ছাড়াই রাস্তা ছেড়ে দিলে সরকার একটু ফার দিতোএতে রাস্তা প্রশস্ত হতোখসড়ামতে, ১৬ ফুট রাস্তার ফার দেড় (১.৫)এখানে রাস্তা ১৬ ফুট আছে, তবে জমির মালিক উভয় পাশে ৪ ফুট ছেড়ে দিলে ২০ হয়এখানে ফার দুই হয়অর্থাৎ, এখানে চারতলা বাড়ি করার সুযোগ আছেজমির দুদিকে ছেড়ে (ইফেক্টিভ সেটব্যাক) দিয়ে আগের নিয়ম অনুযায়ী ফার বাড়ানোর কথা বলছেন ব্যবসায়ীরা
ব্যবসায়ীরা বলছেন, আমরা চাই প্লট সংলগ্ন রাস্তার ফারকে বেসিক ফার ধরা হোকএতে বিল্ডিংয়ের উচ্চতা বাড়বেফ্ল্যাটের সংখ্যা নির্দিষ্ট, আয়তন নির্দিষ্ট, উচ্চতা নির্দিষ্ট করে দিচ্ছে এটাও চাই নাএমনটা করা মানে হাত-পা বেঁধে পানিতে ছেড়ে দেয়াফার এক বাড়ানো হোকড্যাপ যা করছে, বিধিমালায় কিছু পরিবর্তন হোকসব শ্রেণির ক্ষেত্রে রাস্তার ফার এক বাড়ানো হোক, কমপক্ষে দশমিক ৫ বাড়ানো হোকএটা হলেও তা ২০০৮ এর বিধিমালার চেয়েও অনেক কম হবেতবুও কিছুটা স্বস্তি আসবেহয়তো ব্যবসা টিকে থাকবে
আবাসন ব্যবসায়ী এবং ব্রিক ওয়ার্কস লিমিটেডের চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী ভূঁইয়া বলেন, নতুন বিধিমালা অনুযায়ী ভবনের উচ্চতা ও আয়তন কমবেফলে ফ্ল্যাটের সংখ্যা কমবেব্যবসায়ীরা আবাসন খাতে বিনিয়োগে নিরুৎসাহিত হবেনক্ষতিগ্রস্ত হবেন জমির মালিকওবিশ্বের বিভিন্ন দেশ উলম্বভাবে ভবন তৈরির দিকে, আমরা হাঁটছি উল্টো পথেআমাদের জমির সংকট আগামীতে আরও মারাত্মক হবেকৃষিজমির ওপর চাপ বাড়বে, মধ্যবিত্তকে ফ্ল্যাটের আশা ছেড়ে দিতে হবে
এ বিষয়ে মগবাজার এলাকার বাসিন্দা রিপন বলেন, ঋণ নিয়ে আমাদের একটা প্লট নিজেরাই ডেভেলপ করেছিএকটা ব্যবসাও করছিআরও কিছুটা সময় লাগবে ঋণ পরিশোধ করতেএখন যে বিধিমালা করা হচ্ছে এতে অন্য জমিটি নষ্ট হবেআমার জমির চারপাশে ১০-১৩ তলা বিল্ডিং হয়েছেদুই বছর পর আমাদের তাহলে চারতলা বিল্ডিং করতে হবে?
ঢাকা ইমারত নির্মাণ বিধিমালা-২০২৪ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে আবাসন ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিহ্যাব সভাপতি এবং জাপান গার্ডেন সিটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, কোনো ধরনের মতামত ছাড়াই ইমারত নির্মাণ বিধিমালার খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছেবিধিমালা চূড়ান্ত না করার জন্য গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং রাজউককে অনুরোধ জানাইখসড়া ইমারত নির্মাণ বিধিমালায় যেভাবে নতুন আইন তৈরি করা হচ্ছে তাতে সাধারণ নাগরিক, ভূমি মালিক ও ভবন মালিকের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছেএকই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত হবে আবাসনশিল্পগত ২১ এপ্রিল কার্বন নিঃসরণহীন, টেকসই ও পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো নির্মাণের নির্দেশ দিয়েছেন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী
হাউজিং অ্যান্ড বিল্ডিং রিসার্স ইনস্টিটিউটের (এইচবিআরআই) পরিচালনা পর্ষদের সভায় তিনি জানিয়েছিলেন, রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য অপরিহার্য যে সব আইন, তা বঙ্গবন্ধু স্বল্পতম সময়ের মধ্যে প্রণয়ন করেছিলেনদেশের আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় তিনি জনকল্যাণমুখী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছিলেনহাউজিং অ্যান্ড বিল্ডিং রিসার্চ সেন্টারও তিনিই প্রতিষ্ঠা করেছিলেনপরিবেশ সুরক্ষা ও কার্বন নিঃসরণ হ্রাসে বর্তমান বিশ্বে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছেবঙ্গবন্ধু কার্বন নিঃসরণহীন, টেকসই ও পরিবেশবান্ধব নির্মাণসামগ্রী উদ্ভাবনে গবেষণার জন্য এ প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছিলেন
এ বিষয়ে কথা হলে রাজউকের নগর পরিকল্পনাবিদ ও ডিটেইল এরিয়া প্ল্যানের (ড্যাপ) প্রকল্প পরিচালক মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, এর আগে ২০০৮ সালের বিধিমালা যেটা হয়েছিল সেটা বিজ্ঞানসম্মত ছিল নাএখন নগরে সবুজ নেই, রাস্তা নেইনতুন যে বিধিমালা করা হয়েছে সেটা শুধু বাস্তবসম্মতই নয় বিজ্ঞানসম্মতওতিনি বলেন, ফার কম-বেশির কারণে ব্যবসায়ী-ভূমির মালিক ক্ষতিগ্রস্ত হবেন এটা একটা প্রোপাগান্ডাকারণ বিল্ডিং কম হলে তো খরচও কম হবে, এতে বাড়তি খরচ বা লোকসানের কিছু নেইআবার মেট্রো এলাকায় যেখানে ফার বেশি সেখানে অন্য সুবিধাও বেশি এবং বড় বিল্ডিং তৈরির সুযোগ আছেএছাড়া সরকার সবার জন্য জনকল্যাণমূলক বাসযোগ্য শহর করতে চায়আর সেটা গুরুত্ব দিয়েই খসড়া নীতিমালা করা হয়েছে
 

নিউজটি আপডেট করেছেন : Dainik Janata

কমেন্ট বক্স